পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) থেকে বিশেষ প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর বিক্ষিপ্ত হামলা এবং উপাসনালয় ভাঙচুরের মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই অস্থিতিশীল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্বকে তাক লাগিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সব ধরনের ভয়-ভীতি ও শঙ্কাকে পেছনে ফেলে তারা নির্মাণ করছেন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রামচন্দ্রের মূর্তি ও এক বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স—যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক অনন্য বিশ্বমানের দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে, সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিরুদ্ধে কোনো উসকানি বা কারো মুখোমুখি অবস্থান না নিয়ে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় অধিকার ও আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ বৈশ্বিক গণমাধ্যমেরও নজর কাড়ছে।
Table of Contents
শঙ্কা উড়িয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর গল্প
গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতায় যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল, ঠিক তখনই পলাশবাড়ীর সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে (against) কোনো অবস্থান নয়, বরং সব ধরনের সাম্প্রদায়িক ভীতি ও প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্বাধীনভাবে চর্চা করার একটি স্বাভাবিক ও সাহসী অধিকার। আর এই বিশাল রাম মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ সেই অটুট বিশ্বাসেরেরই বহিঃপ্রকাশ।
দেশের সর্ববৃহৎ রাম মূর্তি ও মন্দির কমপ্লেক্স
নির্মাণাধীন এই রামচন্দ্রের মূর্তিটি উচ্চতা ও স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম (Largest in the country) হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বিশাল এই মন্দির কমপ্লেক্সটিকে শুধু পূজার্চনাই নয়, বরং একটি বড় ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক মানের দর্শনীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে দক্ষ কারিগর ও স্থপতিরা এসে দিনরাত কাজ করছেন এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে।
স্থানীয় এক কমিটির সদস্য বলেন, “চারপাশে যা ঘটছিল, তা নিয়ে আমাদের মনেও শঙ্কা ছিল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই মাটি আমাদের সবার। এই উদ্যোগ কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বা বিপক্ষে নয়, বরং আমাদের নিজেদের ধর্মীয় অধিকার ও বিশ্বাসের প্রতীক। আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই যে ভীতি আমাদের স্তব্ধ করতে পারে না।”
বৈশ্বিক সম্প্রীতির এক বড় বার্তা
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি রাষ্ট্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি মাড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এমন বিশাল উদ্যোগ বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বের জন্য একটি বড় ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও কীভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা এই অঞ্চলের মানুষ দেখিয়ে দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, খুব দ্রুতই এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং এটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অন্যতম প্রধান একটি দর্শনীয় ও ধর্মীয় স্থান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। একই সাথে, এটি প্রমাণ করবে যে বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাঝেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের আসল শক্তি।

